বাচ্চার যত্ন নিতে মধু ,৪ টি উপকারিতা জেনে নিন

মধু মানে একটি উপকারি উপাদান আর বাচ্চা মানে ছোট শিশু, আপনার ঘরে নিশ্চই একটি বাচ্চা আছে আর যদি সেই বাচ্চাটির মা অথবা বাবা আপনি হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চই আপনার বাচ্চার যত্ন কিভাবে নিবেন আর কিভাবে করবেন সেটা নিয়ে আপনার চিন্তার কোনো শৈষ নাই ।

সত্যি বলতে বাবা মা ছারা সন্তানের যত্নের মূল্য অন্য কেউ দ্বারা সম্ভব না কখনোই । একটি শিশুর বেড়ে  উঠা নির্ভর করে তার যত্ন নেওয়ার উপরে ,কোনো মা বাবাই চাইবেনা তার বাচ্চার জানা সত্যে কোনো রকম যত্নের অবহেলা হোক ।

বাচ্চার যত্ন নিতে আমরা সাধারণত কি না করে থাকি যেমন বাচ্চার জন্য কোন পুষ্টিকর খাবার ভালো হবে ,তাকে তার প্রপার রুটিন ফলো করে যত্ন নেওয়া আরো অনেক কিছু । কিন্তু একটি মাত্র উপাদান যা আপনার বাচ্চার স্বাস্থ্য এবং শরীর ও মস্তিস্কের জন্য যাদুর মতো কাজ করবে ।

আর সেই উপাদান টি হলো মধু যা আরো আট দশটা স্বাস্থ্যকর উপাদানের চেয়ে হাজারগুনে ভালো রেজাল্ট দেয় । তাহলে আসুন কথা না বাড়িয়ে মধু নিয়ে আলোচনা করা যাক বাচ্চাদের জন্য আপনারা মধুর ব্যাবহার কিভাবে করতে পারবেন ।

মধু বাচ্চার শরীরে এনার্জি বাড়ায়

আমরা তো সবসময় চাই যে আমাদের বাবুটা সবসময় এনার্জিটিক থাকুক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এনার্জিটিক বা শক্তিশালী থকুক যেনো সে কখনো ক্লান্ত না হয়ে পরে । এমনটা যদি সত্যিই চান তাহলে আপনি আপনার বাচ্চাকে রোজ সকালে নিয়ম মেনে ১ চামচ মধু খাওয়ান,আপনার বাচ্চার জন্য এক চামচ মধুই সারাদিনে শক্তির খোরাগ হয়ে থাকবে । কারন মধুতে আছে ফ্রুক্টোজ যা আনপার বাচ্চার শরীরে সারাদিন শক্তি জোগান দিবে । আপনার বাচ্চা থাকবে হেলদি এবং মস্তিষ্ক অনেক সার্পভাবে কাজ করবে । প্রতিদিন সকালে চেষ্টা করুন এক চামচ মধু এমনি অথবা পানির সাথে মিশিয়ে খাইয়ে দিতে ।

তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন মধুটা যেনো খাটি মধু হয় এবং কোনোরকম ভেজার না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন ,বাজারে অনেক ভেজা’ল ব্যাবসায়ী আছে যারা এমনটা করে থাকে ইকটু সাবধান হয়ে কিনবেন কারন এটা আপনার বাচ্চার জন্য নিবেন । সুন্দরবনের মধু বলে অনেকেই মধু বেচে যারা অরিজিনাল বিক্রেতা তোদের খোজ করে মধু কিনলে আপনি ঠক’বেন না।

ঠান্ডা এবং শর্দি কাশি কমাতে মধু র ব্যাবহার

আপনার বাচ্চার ঠান্ডা লাগলে বা সর্দি হলে কতোই না টেনশনে পরে যেতে হয় কি করা যায় কিভাবে ঘরোয়া ভাবে তার ভালো যত্ন নেওয়া যায় কিভাবে তার যত্ন নিলে তারাতারি সুস্থ হয়ে যাবে কোন খাবারটা তার জন্য উপকারি হবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমরা নানবিদ চিন্তা ভাবনা করে থাকি । ছোটবেলায় আমাদের যখন সর্দি কাশি হতো দেখতাম মা আমাদের মধু মিশিয়ে চা বানিয়ে দিতো । তুলসি পাতার সাথে মধু মিশিয়ে দিতো তাহলে সর্দি এবং কাশি তারাতারি ভালো হয়ে যেতো । আমরা তখন অনেকেই ভাবতাম এগুলার কোনো ব্যাখা নাই আসলে কিন্ত তা না এখন এর সাইন্টিফিক ব্যাখা আছে হাজার হাজার । আপনি চাইলে খুজে দেখতে পারেন । আপনার বাচ্চার এরকম সিনটম দেখা দিলে তাকে এক গ্লাস গরম দুধের ভিতর মধু মিশিয়ে অথবা তুলসি পাতা ছেচে তা রস করে তার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে দিন । আপনি চাইলে লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালেও অনেক উপকার পাবেন এই মধুর ।

ক্ষত সারতে মধু র ব্যাবহার

খেলাধুলাতো বাচ্চারাই করে । খেলতে গিয়ে আপনার বাচ্চার যদি কোনো জায়গায় ক্ষত হয়ে যায় ,অথবা হাটতে গিয়ে যদি হোচট খেয়ে পরে যায় ।যেকোনোরকম ব্যাথা বা ক্ষত হলে আপনার বাচ্চার সেই ক্ষতর স্থানে মধু এপ্লাই করতে পারেন । কারন মধুতে এন্টিব্যাকটেরিয়াল সমৃদ্ধ এন্টিবায়োটিক আছে যা ক্ষত স্থান ভালো হতে খুব দ্রুত সাহায্য করে থাকে ।আপনি সব বয়সের বাচ্চার ক্ষেত্রে মধুর ব্যাবহার করতে পারবেন না । অবশ্যেই এই জিনিসটা খেয়াল রাখবেন আপনার বাচ্চার বয়স যেনো এক বছরের বেশি হয় । এক বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মধুর ব্যাবহার না করাই ভালো ।

বাচ্চার ত্বকের যত্নে ব্যাবহার

শরীরের মধ্যে অন্যতম একটি উপাদান হলো স্কিন , আমাদের ত্বক ।এই ত্বকের যত্ন না নিলে ত্বক হয়ে যায় উস্ক খোশকো । শীতকালে আমাদের বড়দের ত্বকই কেমন রাফ হয়ে থাকে তা বলা বাহুল্য ।

আর আপনার বাচ্চার স্কিনতো আরো কোমল ধরনের ।

তো আপনার বাচ্চার স্কিন যেনো কোনোরকম কোনো ক্ষতি না হয় তার জন্য খুব সহজ  একটি টোটকা ।

আপনার বেবির স্কিন কোমল রাখতে আমন্ড ওয়েলের সাথে মধু

মিশিয়ে গোসলের আগে ম্যাসাজ করে নিতে পারেন । এতে আপনার শিশুর ত্বক কোমল এবং মশ্রিন থাকবে ।

কখনো কোনোরকম ক্ষতি হবেনা ।

নিউট্রেশন কিভাবে সার্ভ করে থাকে

আমরা জানি মধু বহু গুনের অধিকারী মধুতে কয়েক ধরনের পুষ্টিগুন বিদ্যমান থাকে । মধুতে যেসব ভিটামিনগুলা বিদ্যমান সেগুলা হলো :

গ্লুকোজ সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ,মিনারেল সহ আরো বহু উপকারি ভিটামিন এবং পুষ্টিগুন যার সবকয়টাই প্রাকৃতিক ।

আপনার বাচ্চার ডেইলি রুটিনের খাদ্য তালিকায় মধু যোগ করুন ।

একটা বিষয় মাথায় রাখবেন আপনার বাচ্চার যদি মধু খেতে অভ্যস্ত না হয় তাহলে তাকে সারাসরি খেতে দিবেন না ।

আপনার বাচ্চার খাবারের সাথে মধু এড করে অল্প অল্প করে খাওয়ান ।

আপনার বাচ্চার জন্য যখন মধু অত্যন্ত উপকারি একটি উপাদান সেক্ষেত্রে

এক চামচ মধু রোজ ব্রেকফাস্ট এ আপনার বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন ।

কিছু কৌশল অবলম্বন করে যেমন :

১. কেকতো আপনার বাচ্চা পছন্দ করবেই তাকে প্যান কেকের সাথে এক চামচ মধু উপরে মিশিয়ে রোজ খাওয়াতে পারেন ।

২. দুধ অথবা কর্নফ্লেক্স এর সাথে আপনার বাচ্চাকে ব্রেকফাস্টে এক চামচ খাওয়াতে পারেন ।

৩. ব্রেড আমাদের প্রতিদিনের দৈনন্দিন খাবার ব্রেড এর সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে পারবেন ।

এতে খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার বাচ্চার  খাওয়াও হয়ে গেলো তার অভ্যাস ঘরে উঠলো খাওয়ার ।

আপনার বাচ্চার সু স্বাস্থ্য আপনার হাতে যা মেনে আপনার বাচ্চার লালন পালন করলে আপনার বাচ্চা হয়ে উঠবে

স্পেশাল এবং চমৎকার মস্তিস্কের অধিকারি ।

সু স্বাস্থ্য কামনার জন্য ভালো টা জানতে চেষ্টা করুন সবসময় ।

আপনি ভালো করে না জানলে বা এই বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে কারো কাছ থেকে

জানার চেষ্টা করবেন যে আপনার বাচ্চার কিভাবে যত্ন নেওয়া যাবে ।

 

 

 

 

Leave a Comment