মুখের ঘা নিয়ে অবহেলা নয় এখনি সতর্ক হয়ে যান ,বিস্তারিত জানুন

Spread the love

মুখের ঘা আমরা কে না চিনি । আমাদের মানব শরীরে মহান সৃষ্টিকর্তা সবকিছু দিয়েছে যেমন শরীর দিয়েছে তেমনি দিয়েছে শরীর পরিচালোনা করার সকল স্নায়ূতন্ত্র নারি ভূরি সব কিছু ।আমাদের এই দেহকে যেমন সৃষ্টিকর্তা সকল কিছু দিয়েছে ভালো থাকার জন্য তেমনি আমাদের শরীরে যদি কোনো কিছুর অভাব বা ঘাটতি হয় তখনি কোন না কোনে অসুখে আমাদের পরতে হয় ।

শরীর যখন তার চাহিদা অনুযায়ী আবার সবকিছু বুঝে পায় তখন আমরা সুস্থতা অনুভব করি । একটা উদাহারন দেয়া যাক আমরা যখন ক্ষুদা অনুভব করি তখন আমাদের খাবার খেতে হয় আর আমরা যদি ঐ সময়টাতে খাবার না খাই তাহলে আমাদের শরীরের নানা অংশে আমরা অবসাদ অনুভব করতে থাকি দুর্বলতা ফিল করি ।খাবার খেলে আবার আমরা ঠিক চাঙ্গা হয়ে যাই । আর আমদের যখন ক্ষুদা লাগে আমাদের সেই লক্ষন টা পরিলক্ষন করিয়ে দেয় আমাদের মস্তিষ্ক ।

আর তেমনি একটা অসুখ নিয়ে আমি আজকে কথা বলবো সেটা হলো মুখের ঘা যেটা আসলে আমাদের সকলের পরিচিত একটা অসুখ । আমরা এটাকে কোনো ব্যাপারই মনে করি না । কেনো যে হয়েছে থাক আবার ভালো হয়ে যাবে এমনটা মনে করি । কিন্তু না আসলে আমরা এটা জানিনা আমদের শরীরের কোন অংশে কিসের ঘাটতি পরেছে ।

কারন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন মানবদেহের মুখের ঘা প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০০ রোগের লক্ষন বগন করে থাকে । কি হোচট খেলেনতো । হ্যা ভাই এটাই সত্য আমরা আসলে এই ব্যাপাটা অনেকেই জানিনা । আজকে এর বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো আর আপনাদের শেয়ার করবো ।

মুখের ঘা টা আসলে কি ?

ঘা অসুখটা প্রথমতো মুখে বা আমাদের জিহ্বা অথবা ঠোটের জায়গাতে হয়ে থাকে । এটা হলে আমাদের মুখের মধ্যে আমরা  ব্যাথা অনুভব করে থাকি । কোনো কিছু খেতে গেলে আমাদের মুখের জ্বালাপোড়া অনুভব হয়। এগুলাই হলো মুখে ঘা হওয়ার প্রাথমিক লক্ষন । আবার এটা ভিন্নরকমীও হতে পারে যেমন অনেকের মুখ ফুলে যায় গলার দিক ভারী হয়ে আসে বা মুখ থেকে পুজ বের হতে পারে । এমন লক্ষনই হলো ঘা হওয়ার চিহ্ন ।

মুখের ঘা সাধারণত কেনো হতে পারে:

আমাদের অনেকেরই গালের পাশে বা জিহ্বা তে ঘা হয়ে থাকে । আবার সাধারণভাবে নিজের কিছু কর্মের ফল স্বরুপও ঘা হতে পারে  । যেমন আপনি যদি খুব গরম পানীয় পান করেন সে জন্য হতে পারে । বা আপনি যদি কোনো কিছু চিবিয়ে খেতে গিয়ে কামর পরলে আপনার ঘা হতে পারে । আপনি যদি শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাত মাজেন তাহলেও আপনার মুখের ঘা দেখা দিতে পারে । আপনার মুখে বা গালের ভেতর যদি কে’টে ছিরে যায় তাহলে আপনার মুখে ঘা হতে পারে । এগুলা সবসময় এরিয়ে চলার চেষ্টা করবেন ।

সাবধানতা অবলম্বন করা সবকিছুর জন্যই ভালো একটি অভ্যাস ,আপনার ‍ মুখের দাত যদি আকাবাকা বা উচু নিচু থাকে তাহলে আপনি কখনোই আপনার দাত হার্ড ব্রাশ ব্যাবহার করে মাজবেন না । আর মুখের আঘা’তের ব্যাপারে সবসময় সাবধান থাকবেন  যেনো কে’টে ছিরে না যায় ।

মুখের ঘা এর সমস্যা সমাধানের জন্য আপনরা শরীরে পর্যাপ্ত ঘুম, ভিটামিন জাতীয় খাবার, আপনার মানসিক সুস্থতা থাকা অত্যন্ত জরুরী । তাই আপনাদের আজকে কিছু টিপস্ দিবো যা আপনার মেনে চলার চেষ্টা করবেন ।

মুখের ঘা সারাতে যষ্টিমধু:

ঘা সারাতে সবচেয়ে উপকারি খাদ্য বা উপকরন হলো যষ্টিমধূ যা আপনার ঘা অতি দ্রুত সারাতে সাহায্য করে । এক টেবিল চামচ যষ্টি মধু আপনারা একটা গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে ভিজিয়ে রাখুন ,তারপর আপনি এই পানিটা দিয়ে নিয়ম করে কয়েকবার কুলি করুন । আপনার ঘা অনেক তারাতারি ভালো হয়ে যাবে ।

অ্যালোভেরার জেল :

অ্যালোভেলাকে আমরা প্রাকৃতি এন্টিসেপটিক বলে থাকি যা খুব উপকারী একটি উপাদান বা ভেষজ ঔষধ যা আমাদের অনেক উপকারে আসে । আর এই উপকারী উপাদানটি যদি আপনি রস বানিয়ে আপনার মুখের ভিতরে দিতে পারেন তাহলে আপনার মুখের ঘা সেরে যাবে । কারন আ্যলোভেলা হলো এন্টিভাইরালন সম্বৃদ্ধ একটি ভেষজ ঔষধ । আপনার অনায়াসে এটা ব্যাবহার করতে পারেন ।

নারিকেল: 

নারিকেল একটি সুস্বাধু খাবার যা আপনাদের অনেকেরই পরিচিত আবার আমরা বাঙালীরা এই নারিকেলের কদরটা ভালো করেই জানি কিন্তু,এটা কি জানি যে নারিকেল একটি মেডিসিন হিসাবেও কাজ করে । আপনার এক টেবিল চামন নারিকেল নিয়ে তাতে মধু এবং দুধ মিশিয়ে তা আপনা ঘা এর স্থানে লাগান বা মালিশ করেন তাহলে আপনার মুখের ঘা অতি তাড়াতাড়ি ভালো  হয়ে যাবে । আর আপনার কাছে যদি মধু এবং দুধ না থাকে তাহলে আপনি নারিকেলের রস বা তেল বানিয়ে আপনার ক্ষত স্থানে লাগাতে পারেন এতে করে আপনার অনেত উপকৃত হবেন ।

তুলসিপাতা:

তুলসি পাতা চিনেনা এমন মানুষ খুব কমই আছে আর আমরা

এটাও জানি তুলসিপাতা একটি ঔষধি উপাদান যা অনেক রোগের জন্য কাজ করে থাকে ।

আপনার যদি প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার নিয়ম করে তুলসি পাতা ভেজানো পানি পান করেন ।

তাহলে তা আপনার মুখের ঘা প্রতিরোধে অনেক দ্রুত কাজ করবে ।

তো আপনার এই টোটকা টা ব্যাবহার করে দেখতে পারেন আপনার ১০০% উপকার পাবেন ।

টি-প্যাক:

টি-ব্যাগ আমরা যারা চা খাই তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস । আর এই টি ব্যাগ অনেক কারেও বটে ।

আপনার ঘা এ যখন ব্যাথা অনুভব হয় বা জ্বা’লা পো’ড়া অনুভব হয়

তখন আপনারা এই টি ব্যাগ একটা নিয়ে ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং তা

আপনার ক্ষ’ত স্থান ঘায়ের অংশে লাগিয়ে দিন দেখবেন আপনার জ্বা’লা পোড়া অনেকটা কমে গেছে অতি দ্রুত ।

এই জিনিসটা আপনারা করে দেখতে পারেন ।

বরফ:

আমাদের মুখের জ্বা’লা পোড়া যখন আমাদের সহ্যর বাইরে চলে যায় অনেকে চিল্লাচিল্লি বা অসহায় বোধ করি ।

আপনি চাইলে যখন ব্যাথা বেড়ে যাবে ফ্রিজ থেকে এক টুকরা বরফ নিয়ে নিন এবং আপনার মুখের যে অংশে ঘা আছে

সেখানটায় চেপে ধরে রাখুন দেখবেন ব্যাথা কমে যাবে অনেকটা । ব্যাথা কমানোর আরো কয়েকটি উপায় হলো :

আপনি যদি বরফ না পান তাহলে ঠান্ডা পানি নিয়ে কুলি করতে পারেন গড়গড়ার সাথে এতে ব্যাথা অনেকটা কমে যায় ।

আবার আপনি লবণ মেশানো পানি ইউজ করতে পারেন কারন

লবন এন্টি ব্যাকটেরিয়া ফাঙ্গাস দূর করতে সাহায্য করে যা আপনার

মুখের ঘা সারাতে বা প্রতিরোধ করতে দ্রুত কাজ করে থাকে ।

আপনি চাইলে লবঙ্গ ব্যাবহার করতে পারেন ।

একটা লবঙ্গ নিয়ে আপনার ক্ষত স্থানে তা চেপে ধরে রাখুন ।

আপনি লবঙ্গ মেশানো জল দিয়ে কুলি করতে পারেন এতে আপনা র ঘা দ্রুত প্রতিরোধ হবে ।

আশা করি এই টা ব্যাবহার  করলে  আপনারা অনেক উপকৃত হবেন ।

 

সবশেষে একটা কথাই বলবো শরীরের অসুখ বা কোনোরকম সমস্যা নিয়ে বসে থাকবেন না

কখনো বা ভালো হয়ে যাবে মনে করে তা বাড়তে দিবেন না আপনার প্রাথমিকভাবে চেষ্টা করুন

কিন্তু এতে যদি আপনারা কোনোরকম আশানরুপ ফল দেখতে না পারেন

তাহলে দ্রুত রেজিস্টার্ড কৃত ডাক্তারের সরনাপন্ন হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি । সবার সুস্থতা কামনা করছি ।

 

 

Leave a Comment