আপনার হার্ট ভালো রাখবে যে ১০ টি খাবার – জানতে হবেই

Spread the love

হার্ট আমাদের দেহের একটি মূল্যবান অংশ । যার অর্থ হলো হৃদয় বা আমরা অনেকেই হৃৎপিন্ড বলে থাকি । যেটা অকেজো হয়ে গেলে আমাদের নিস্বাস ঐ পর্যন্ত আটকে যায় । হে এটাই আমাদের দেহের ছোট্ট একটি অঙ্গ যার ‍গুরত্ব অপরিসীম । আমরা যদি আমাদের দেশের কোনো হার্ট ইন্সটিটিউট লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাবো,হাজার হাজার হার্টের পেশেন্ট প্রতিনিয়ত হসপিটালে আসছে যাচ্ছে কেনো । শুধু আমাদের দেশেই কি এতো বেশী রকমের হার্টের রোগী ।

না শুধু আমাদের দেশেই না বিশ্বের প্রতিটা দেশেই এমন হার্টের রোগী পাওয়া যায় । কেনো হয় এই রকমটা শুধু কি আমাদের অসচেতনতার ফলে বা আমাদের দৈনন্দিন রুটিন এর বাইরে আমরা যত্ন নেইনা বলে এমনটা হয় । হতে পারে হার্ট ভালো না রাখার জন্য আমরাই দায়ী । তাহলে আমাদের কি করতে হবে ? অবশ্যই আমাদের দেহের এই বিশেষ ছোট্ট অঙ্গটি যেনো ভালো থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে । বা আমাদেরকে যত্নশীল হতে হবে ।

হার্ট ভালো রাখতে আমাদের কি কি করা জরুরি :

হৃৎপিন্ড ভালো রাখতে আমাদের কিছু খাদ্যঅভ্যাস ঘরে তুলতে হবে । আর সেটা হলো ফলমূল জাতীয় । আজকে আমি আপনাদের এমন ১০ টি বিশেষ ফল এর কথা জানাবো যা মানবদেহের হার্টবে খুব ভালো রাখতে সহায়তা করে থাকে । তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ফলগুলি আমাদের হার্টকে ভালো রাখে ।

হার্ট ভালো রাখে এমন ১০ টি খাবার এবং তার কার্যকারিতা বর্ণনা করা হলো :

মিষ্টি আলু :

আমরা অনেকে আলু বেশী খাই আর বেশী খাওয়ার ফলে  অনেকেই বলে থাকে যে আরে ভাই আপনার তো ডায়বেটিস বেড়ে যাবে এতো বেশী আলু কেনো খাচ্ছেন ? আমরা অনেকেই এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকি আলু খাওয়ার ফলে আর একথা শুনে পরে যাই বিপাকে । কিন্তু আমরা কি জানি যে  মিষ্টি আলুটা পুরোটাই এর ব্যতিক্রম ধর্মী একটা খাবার যেটার এমন কোনো রকম পার্শপতিক্রিয়াই নাই । কারণ আমরা যে মিষ্টি আলুটা খাই সেটা হলো লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স জাতীয় একটি  খাবার। আর আমরা কি জানি যে মিষ্টি আলুতে আছে প্রচুর দ্রবণীয় আঁশ, ভিটামিন এ,  লাইসোপেন, যা আমাদের দেহের  হার্টের জন্যে অনেক উপকারী উপকারী। তাই আমরা সবাই আমাদের খাবারের তালিকায় এই খাবার টি রাখতে চেষ্টা করবো আর এটা তেমন ব্যায়বহুল একটা খাবার না যা খুব সহজেই পাওয়া যায় । আপনার হার্ট ভালো রাখতে এই খাবারটি খান ।

গাজর:

সবজির মধ্যে একটা যাদুকরী সবজি  হলো গাজর যা আমাদের শরীরের কোলেস্টেরল কমিয়ে থাকে । আমারা জানি  আমাদের শরীরের জন্য কোলেস্টেরল অনেক ক্ষতিকর একটা জিনিস । এটা কমাতে আমাদের খুব স্বুস্বাদু একটা সবজি গাজর খাওয়া উচিৎ । কারন গাজরের দ্রবনীয় আশ ই আমাদের শরীরের কোলেস্টেরল কমিয়ে আনতে সাহায্য করে থাকে ।

বাদাম:

আমরা অনেকেই জানিনা যে বাদামের মধ্যে রয়েছে  আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা আমাদের হার্টের জন্য অনেক উপকারী একটি খাদ্য ।  ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া স্টেট এর একটি গবেষনায় জানা গেছে যে ,প্রতি সপ্তাহে যারা ৫ বারের বেশী বাদাম খায় তাদের হৃদরোগের মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ থেকে ৩৯ শতাংশ কম । আমরা অনেকেই জানিনা যে নিয়মিত যারা বাদাম খায় তাদের কোলেস্টেরল এইচডিএল-এর মাত্রা  বাড়ে । বাদাম আরো উপকারী একটি খাবার লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সমৃদ্ধ একটি খাবার, যা একজন মানুষের ডায়বেটিস প্রতিরোধের ক্ষমতা  বাড়িয়ে থাকে । বাদামের মধ্যে ভালো খারাপ নেই সব ধরনের বাদামই ভালো আপনি সবরকমের বাদাম খেতে পারেন ।

সামুদ্রিক বা সমুদ্রের মাছ :

হার্টের জন্য অনেক উপকারী ওমেগা রয়েছে সামুদ্রিক মাছে । লাক্ষা ,রুপসা ,কোরাল , রুপচাদা এসব মাছ আমাদের বাংলঅদেশে আছে এসব মাছ আপনি খেতে পারেন অনায়াসে ।তাছারা বিদেশি সামুদ্রিক মাছের মধ্যে রয়েছে   হেরিং ,টুনা ,স্যামন, সারডিন, ম্যাকারেল, ইত্যাদি আপনি আরো যদি সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে খেতে পারেন যা আপনার হার্টকে সবসময় সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে ।

স্পিরুলিনা :

অতিক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক নীলাভ সবুজ সামুদ্রিক শৈবাল হলো স্পিরুলিনা , আমরা অনেকে জানি কিনা জানিনা তবে এটি  একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খাদ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে সারা বিশ্বে। আমরা জানিনা হয়তো কিন্তু স্পিরুলিনাকে একবিংশ শতাব্দীর খাদ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ । আমরা এটি খেতে পারি কেনোনা স্পিরুলিনাতে রয়েছে দুধের চাইতে ২০ গুণ প্রোটিন, ডিমের চাইতে ছয় গুণ প্রোটিন এবং মাছ ও মাংসের চাইতে তিন গুণ প্রোটিন, যেটাতো কোনোরকম কোনো কোলেস্টেরল নাই। আর শুধু তাই নয় এই স্পিরুলিনা  আরও রয়েছে পর্যাপ্ত এন্টি-অক্সিডেন্ট ,ফলিক এসিড ও  ,ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন ।

রসুন :

রক্তের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ কোলেস্টরল হলো এল ডি এল, এর মাত্রা কমাতে দারুন ভাবে কাজ করে রসুন ।

আপনার হার্টের সুস্ততার জন্য সবচেয়ে বেশী পুষ্টিকর খাবার হলো রসুন ।

আপনি এর জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে হলেও এক কোষ রসুন খান ।

আপনি কি জানেন রসুন ঠান্ডাজনিত সকল ফ্লু দূর করতে বা ভালো করতে দারুন ভাবে কাজ করে ।

বিজ্ঞানিরা তো রসুনকে প্রাকিতিক এন্টিবায়োটিক হিসাবেও স্বৃকৃতি দিয়েছে ।

সয়াদুধ :

সয়াদুধ হলো একটি কোলেস্টোরল মুক্ত খাবার যা সয়াপ্রোটিন বা প্রথম শ্রেনীর উদ্ভিদ জাত সয়া প্রোটিন ।

এটাকে গরুর দুধের বিকল্প বলা যেতে পারে । শতভাগ নিরাপদ এবং হার্টের জন্য খুব উপকারী একটি খাবার । এটাও আপনারা খেতে পারেন ।

এটি প্রতিদিন আপনি নিয়ম মাফিক 250 মিলি করে খেয়ে নিতে পারেন ।

আর এটা বানানো খুবই সহজ আপনি যদি চান বাসায় বসেও এটি বানাতে পারেন ।

বাজার থেকে আপনি সয়াবিন কিনে এনে আপনি খূব সহজেই সয়াপ্রোটিন বানিয়ে নিতে পারবেন ।

হার্ট ভালো রাখতে কমলা :

পৃথিবীতে এই একটা ফল বা খাবার যাকে আমরা চিনিনা বা যার গুনাগুন জানা নাই এমন মানুষ খুব কমই আছে ।

আমরা কি জানি কমলায় আছে অনেক গুরত্ব একপ্রকার আশ পেকটিন নামে একপ্রকার আঁশ

যা আমাদের শরীরে কোলেস্টোরল কে কমাতে যাদুর মতো কাজ করে ।

এই কমলার মধ্যে আরো আছে পটাশিয়াম , আর এই পটাশিয়াম আপনার আমার শরীরের প্রেসার কমাতে সাহায্য করে ।

কোনো একটা গবেষণায় বিজ্ঞান প্রমান পেয়েছে যে , হেসপিরিডিন নামের

এন্টি-অক্সিডেন্টের উপস্থিতি থাকার কারনে কমলার রস খেয়ে এক ব্যাক্তির ব্লাড পেশার খুব ভালে ভাবে কমে গেছে।

হার্ট ভালো রাখতে শিম:

সয়াপ্রোটিন আর এই সয়াপ্রোটিন আছে সয়াবিন ছারা একমাত্র শিমের মাঝে, যা শরীরের রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রাকে কমিয়ে এনে

আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অতএব হার্ট ভালো রাখতে শিমের কার্য কারিতা ব্যাপক।

আমরা কি জানি  আধাকাপ পরিমান শিমে আছে নয় গ্রাম পরিমাপ কোলেস্টেরল কমাবার উপযোগী আঁশ যা খুবই দরকারি জিনিস।

হার্ট ভালো রাখতে টকদই :

অনেকেই আমরা টক দই চিনতে ভূল করে থাকি আসলে টক দই কাকে বলে ।আমরা কি জানি টক দই কাকে বলে ?

তাহলে শুনুন কিছুদিন আগে আমিও টক দই চিনতে ভূল করে ফেলেছিলাম পরে রিসার্চ করে জানতে পারি যে টক দই আসলে চিনি ছারা যে দইটা হয় সেটা ।

যে দইটাতে চিনির ব্যাবহার করা হয়না সেটিই টক দই বরে অবিহিত করা হয়ে থাকে ।

টক দই আপনার শরীরের হার্ট এর পাশাপাশি শরীরের জন্য খুিই উপকারিেএকটি খাবার ।

আমাদের মধ্যে যার সাধারণত উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের জন্য টকদই অনেক উপকারী খাবার  । ট্রাই করে দেখতে পারেন ।

টকদই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আপনার পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে ।

অনেকের বডির ত্বক নিয়ে চিন্তিত থাকেন তারাও টক দই খেতে পারেন ।

আপনার ত্বকের জন্য খুবই উপকারি একটি খাবার । তাই চেষ্টা করবেন প্রতিদিন যেনো এককাপ টক দই খেতে পারেন ।

 

 

 

Leave a Comment