নরমাল ডেলিভারি করাতে মাথায় রাখুন ৬টি বিষয়

Spread the love

এই ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে মানুষ অনেক কিছুই জানতে পারে অথবা বুঝতে পারে খুবই সহজে । কেউ কেউতো ভার্চুয়াল জিনিস দেখে সেটা বাস্তবে এপ্লাই করেও ফেলে । আসলে এই ব্যাপারটা আমার মতে তখনোই ভালো হয় যখন কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী করা হয় তখন সে ব্যাপারটার সঠিক ফলাফল আমরা পেয়ে থাকি । আর হুটহাট যখন আমরা কিছু করে বসি তখন এর ফলাফল কি হয় , ঐ যে আমরা ভাবি নরমাল ডেলিভারি আর করাতে হয় সিজার ব্যাপারটা ঠিক এমনটাই ।

আসলে আমাদের সমাজে আমরা অনেকেই ভাবতে থাকি আমরা কখনো সিজারে যাবোনা নরমাল ডেলিভারী করাবো কিন্তু শেষ সময়ে গিয়ে দেখা যায় সিজার ছারা কোনো উপায় থাকেনা । কেনো এমনটা হয় ? চলুন রোগীদের মধ্যে কেমন ভ্রান্ত ধারনা থাকে তা আমরা আজকে জানবো ।

ভ্রান্ত ধারনা ১:

অনেক গর্ভবতী মায়েরা এবং হাজবেন্ড রা কিভাবে তাদের নরমাল ডেলিভারীর প্রস্তুতি নেয় শুনুন তাহলে ।

  • সবসময় হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খেতে হবে ।
  • বেশী বেশী ভিটামিন ঔষধ খাওয়া যাবেনা কারন বাচ্চা বড় হয়ে যাবে ।
  • তেল চর্বি জাতীয় খাবার খেতে হবে তাহলে বাচ্চা ডেলিভারী হবে সহজেই ।

শেষ অবধি দেখা যায় তারাই রিকুয়েস্ট করে বাচ্চা সিজার করানোর জন্য ।

ভ্রান্ত ধারনা ২ :

এমন সব আদরের মেয়েরা থাকে যারা বাবা মায়ের একমাত্র কন্য হয়ে থাকে আমরা জানি এমন মেয়েরা খুবই আল্লাদী হয় আর খুব সহজেই ডিসিসান নেয় তারা সিজার করাবে । কিন্তু এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে দেখা গেলো মেয়েটি নরমালে বাচ্চা ডেলিভারী করাতে ইচ্ছুক । তাই মেয়েটি তার গর্ভকালীন সময়ে ইউটিউব থেকে ভিবিন্ন ভিডিও দেখে তার এক্সারসাইজ চালিয়ে এসেছে । শেষে দেখা গেলো মেয়েটার গর্ভফুল বা প্লাসেন্ট জরায়ূর নিচ তাই তাকে ইমিডিয়েট সিজার করিয়ে ডেলিভারী করাতে হলো ।

উপরের দুইটি দৃশ্যপটই দুই শ্রেনীর মানুষের মতবাদ এবং ভাবচিত্র । তারা দুজেই চেয়েছিলো নরমাল ডেলিভারী করাতে । আসলে এমনটা প্রায়ই দেখা যায় আমরা অনেকেই জানিনা ।  নরমাল ডেলিভারী হলো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এর জন্য মাত্রাতিরিক্ত অস্বাভাবিক কিছু করার দরকার নাই । এই বিষয়গুলার উপর জ্ঞান না থাকার কারনে আমাদের সমাজে এমন সকল কু প্রথা গুলা দেখা যায় ।

তাই আজকে আমি আপনাদের কিছু দিক নির্দেশনা দিবো যেগুলা করলে আপনারা নরমাল ডেলিভারী করাতে পারবেন বা এর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন ।

নরমাল ডেলিভারি র প্রস্তুতি নিতে যে ৬ টি বিষয় মাথায় রাখবেন

১) শরীরের স্বাভাবিক ওজন ধরে রাখার বিষয় :

নরমাল ডেলিভারী করানোর জন্য প্রথম বিষয় বা শর্ত হলো শরীরে ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে । শরীরের ওজন যেনো স্বাভাবিক থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে । শরীরের ওজন যদি স্বাভাবিকের তুলনায় কম বা বেশী হয়ে যায় তাহলে নরমাল ডেলিভারীর সম্ভাবনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কমে যায় । এবং ডেলিভারীর সময় রোগীর অনেক জটিলতা দেখা দিতে পারে । সুতরাং এই দিকটায় বিষেশ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে ।

২)ডায়বেটিস ও প্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে :

যাদের প্রেগনেন্সির আগে থেকে এসকল মেডিকেল সমস্যা বিদ্যমান থাকে যেমন: ডায়বেটিস ,হাই বা লো প্রেসার ইত্যাদি তারা গর্ভাবস্তায় সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ মাফিক চলতে হবে । যেনো এসব সম্যাগুলা নিয়ন্ত্রনে থাকে ।

৩)নরমাল ডেলিভারী একবার সিজারের পরেও করা যায় :

যেসকল রোগীদের প্রথমবার সিজার এ ডেলিভারী হয়েছে সেসকল মহিলারা পরবর্তীতে নরমাল ডেলিভারীর চিন্তা করতে পারেন । কারন আপনি পরবর্তীতে নরমাল ডেলিভারীর প্রস্তুতি নিতে পারেন আপনার প্রথমবার কেনো সিজার হয়েছিলো সেটার উপর ভিত্তি করে । আমাদের বাংলাদেশের অনেক কর্পোরেট হাসপাতালগুলাতে এমন ডেলিভারী প্র্যাকটিস করিয়ে থাকে ।

৪)ব্যায়াম করুন মাঝারী মানের :

গর্ভাবস্তার শুরু বা প্রথম থেকেই সকল মায়েদের করনীয় হচ্ছে নরমাল অ্যাকটিভিটি বা ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া একদম শেষ সময় অবধি। কিছু কিছু গর্ভবতী  মায়েরা (প্রিটার্ম ডেলিভারির হিস্ট্রি,প্লাসেন্টা প্রিভিয়া ইত্যাদি) ছাড়া অন্যসকল মায়েরা সবাই এইসময়টাতে মাঝারি থেকে হালকা পরিমানের ব্যায়াম এবং সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ২০মিনিট হাঁটাহাঁটি করতে পারবেন।

৫)মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে :

নরমাল ডেলিভারীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে রোগীর মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নেয়া ।

মানে মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকাটা খুবই জরুরি ।

মনে রাখতে হবে নরমাল ডেলিভারী মা এবং সন্তান বা নবজাতকের জন্য সুফল বয়ে আনে ।

যদিও এটি একটি কষ্টকর প্রক্রিয়া ।

আর কষ্ট সহ্য করার দায়িত্ব শুধূ মা কে নিলেই হবেনা পরিবারের অন্যদের উৎসাহ এখানে গূরত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে ।

৬) ডেলিভারি র সময় পেইন :

ডেলিভারী পেইন উঠানোর সময় কোনো রকম আলাদা ঔষধ না খাওয়াই ভালো ।

এর জন্য কোনোরকম ঔষধ খাওয়াতে হয়না এটা আল্লাহ প্রদত্ত একটি প্রক্রিয়া যা মহান আল্লাহ তালার রহমত স্বরুপ ।

নরমাল ডেলিভারি সময় না ঘাবরিয়ে আত্মবিস্বাস রাখা জরুরি ।

আর যদি তাতে কোনোরকম জটিলতার সৃষ্টি হয়ে যায় । তাহলে ডাক্তারের মাধ্যমে পেইন উঠানোর ব্যাবস্থা নিতে হবে ।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারীর সময় পেশেন্ট এর ভিবিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে ।

তখন কোনো কিছু দেরী না করে সিজারের ব্যাবস্থা নেওয়াই উত্তম ।

কারন সব নরমাল ডেলিভারি মা এবং শিশু কারো জন্যই সুফল বয়ে আনেনা ।

আমাদের সকলেরই উচিৎ সবসময় একটি সুস্থ বাচ্চা কামনা করা ।

Leave a Comment