বিয়ের রাতে মা এবং নানীরা কনে কে কি কি করতে বলে দেয় জে’নে নিন

Spread the love

মেয়েদের বিয়ের রাত মানেই কতো মজার ব্যাপার । বিয়ে মানে আনন্দ ,কারো কাছে বিয়ে মানে নতুন জীবন আবার কারো কাছে বিয়ে মানে খালি খাওন আর খাওন । যাই হোক খাওয়া দাওয়া আমরা পরে করি আগে জানি মেয়েদের নতুন বিয়ে হলে মা এবং নানীরা কি শিখিয়ে দেয় । এই ব্যাপারটা আমারা অনেকেই দেখেছি আবার অনেকেই আমরা শুনেছি । কিন্তু আসল কাহিনী কি আমরা জানি । তো বন্ধুরা সেই গোপণ বিষয়টা আজকে উপস্থাপন করতে চলেছি তাই পুরো বিষয়টা জানতে হলে পুরো ব্যাপারটা আগে পড়ুন ।

যারা সারজীবন লালন পালন করে একটা আদরের মেয়েকে হুট করে জীবনের একটা সময়ে আরেকজনের হাতে তুলে দেয় তারা আর কেউ নয় বাবা মা । একটা বাবাই জানে তার মেয়েকে সে কি পরিমান ভালোবাসে । আবার একটা মায়ের কাছেতো সাত রাজার ধন সেটা বলতেই নং । হে তবে মেয়েদের জীবনটাই সৃষ্টিকর্তা এমনভাবে তৈরী করেছে । জন্মের পর তারা বাবার বাড়িতে একটা জীবন পায় আবার বিয়ের পর আরেকটা জীবন পায় আর সেটা হলো স্বামীর বাড়ি মানে তার জীবনসঙ্গিনির  বাড়ি ।

বিষয়টা ভাবতে গেলে অদ্ভুদ লাগলেও হে এটাই সত্যি আর এটাই সৃষ্টিকর্তার একটা ধর্ম প্রেরন করেছে আমাদের উপরে । আমরা ছেলেরা কোথাও গিয়ে বেশীদিন থাকতে আমাদের কষ্ট হয় নিজের বাড়ির জন্য আর মেয়েরা সারাজীবন কাটিয়ে দেয় অচেনা মানুষদের সাথে । সে হয়ে যায় বাবার বাড়ির মেহমান ।

”মেয়েদের বিয়ে”

মেয়েদের বিয়ে তো হয়ে যায় বাবার বাড়ি থেকে একটা মেয়েকে অনেক কিছু দিলেও যেনো কিছুই দেওয়া হয়না কারন একটা বাবা মা চিন্তা করে তার মেয়ের যেনো কোনো কিছুর অভাব না পরে । তারপরে বিয়ের পরে যাওয়ার সময় কিছু গুরত্বপূর্ন কথা তাকে শুনিয়ে দেয়া হয় আর সেই কথাগুলোই হয়ে উঠে সেই মেয়েটার সম্বল । আর ছেরে যাওয়ার সময় সেই চোখের জল আবরনে ঢেকে যায় তার জীবনের সম্বল সেই কথার ভাজে “মেয়েদের বিয়ের রাত” ।

আগামীর সবকটা দিন যেনো তার জীবনে ভালো কাটে এই জন্য তাকে উপদেশ দেয়া হয় । আর সেই উপদেশ গুলা সে মেনে চললেই সুখী হতে পারবে বলে ধারনা থাকে তার অভিবাবকদের । চলুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর কাছে হাত তুলে দোয়া করি আল্লাহ সুবাহুনাহু তা’আলা যেনো আমাদের প্রতিটা বোনকে সুখী জীবন যাপন করার তৌফিক দান করে আমিন ,সুম্মা আমিন ।

মূল বিষয় হলো আমাদের মা এবং নানীরা বা চাচিরা মেয়েদের বিয়ের রাত যে উপদেশ তাদেরকে দিয়ে দেয় সেগুলা হলো :

মা অথবা দিদুন তুমি তোমা’র বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছো আজকের এই শুভ দিনে। তোমার জন্মের পর থেকে যেখানে তুমি জন্ম নিয়েছো যেখানো থেকেছো, খেয়েছো ,খেলেছো তুমি যেখানে যাচ্ছো তা তোমার সাথে মোটেও খাপ খাবেনা তুমি সে পরিবেশের সাথে মোটেও পরিচিতো নও। তাই তোমাকে বলছি তুমি এমন সঙ্গীদের সাখে মি’শবে যাদের ‍তুমি চিনোনা তারা সবাই থাকবে তোমার অপরিচিত । তাই আজকের পর থেকে তুমি তার দাসী হয়ে যাও। দেখবে  সেও সমান ভাবে তোমা’র দাস হয়ে যাবে এটাই নিয়ম। আর এই কাজটা করার জন্য তুমি ০৫ টি বৈশিষ্ট্য নিজের মধ্যে ধারণ করে রাখো, তাহলেই দেখবে  সে তোমা’র জন্য তোমার সপ্নে বুনা সঞ্চিত ধন হয়ে যাবে মিলিয়ে নিও। যে ১০ টি বৈশিষ্ঠ সেগুলা হলো :

প্রথম বৈশিষ্ঠ টি হলো :

তুমি তোমার স্বামীর সঙ্গে থাকবে অল্পতেই সন্তুষ্টি নিয়ে মানে অল্পতেই তুমি সন্তুষ্ট থাকবে । জীবন ধারন বা জীবন যাপন করবে নৈকট্য ,অনুগত্য এবং মানবতার সহিত ।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ঠ টি হলো : তোমার স্বামীর নজরে পড়ার জায়গাগুলো বা স্থানগুলা সবসময় দেখাশোনা করবে খেয়াল রাখবে। তার নাকে লা’গে এমন স্থানগুলোর দিকে আগে নজর দিবে । তোমার স্বামীর দুই চোখ যেন সবসময় তোমা’র খারাপ কোনো কিছুর দিকে না যায়। আর সে যেরো সুবাস ছাড়া তোমা’র কাছে অন্য কোনো গন্ধ না পায় এটা সবসময় খেয়াল রাখবে। সুপ্রসিদ্ধ সুন্দরের সবথেকে সর্বোত্তম যে জিনিসটি তা হলো চোখের সুরমা। আর পবিত্র হওয়ার যে সুবাস সেটা হলো সুবাসিত সাবান পানি ।

তৃতীয় বৈশিষ্ঠ টি হলো :স্বামীকে খাওয়ানোর সময়গুলোতে তালা’শ করবে সে দূরে থাকলে তার খবর নিবে। তার ঘুমের সময় সর্বদা নিরব থাকবে এবং কথা না বলার চেষ্টা করবে। কারণ, মানুষকে  ক্ষুধার তাপ অনেক তাতিয়ে দেয় যা অনেক মানুষ মুখে বলতে পারেনা। আর হঠাৎ করে ঘুম থেকে জেগে উঠলে মানুষ রা’গ করে থাকে বা রে’গে যায়  ।

চতুর্থ বৈশিষ্ঠ টি হলো :স্বামীর ঘরবাড়ি এবং তার সম্পত্তির যত্ন নিবে খুব মনোযোগ সহকারে ।

তোমার স্বামীর যত্ন নেওয়ার পর তোমার স্বামীর পরিবারের দিকে লক্ষ্য রাখবে মানে তোমার স্বামীর পরে তোমার স্বামীর সংসার ।

পঞ্চম বৈশিষ্ঠ টি হলো :

তার কোনো আদেশ নিষেদ অমান্য করবেনা করার চেষ্টাও করবেনা ।

অকারনে তার কোনো দোষ খুজে বের করার চেষ্টা করবানা ।

কারন তুমি যদি তার আদেশ নিষেদ অমান্য করো তার মানে তুমি তার মনটাকে বিরক্ত করে দিলে বা রাগিয়ে দিলে ।

যদি তার কোনো দোষ খুজে বের করার চেষ্টা করো তাহলে

তুমি তার সাথে বিস্বাস’ঘাতগতার ন্যায় অপ’রাধী হয়ে গেলে ।

আরো জিনিস তোমাকে তোমার মাথায় রাখতে হবে ।

তার মন খারাপের সময় কোনোরকম উল্লাস করবেনা ।

তার আনন্দের সময় কখনো তোমার মন খারাপ রাখার চেষ্টা করবেনা ।

কোনো সমস্যা হলে ব্যাক্তিগত ভাবে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করবা ।

যদি দুঃখের সময় উল্লাস করো তাহলে তার মন ভেঙে যাবে আবার যদি তার

আনন্দের সময় মন খারাপ করো তাহলে তার মন বিরক্ত হয়ে যাবে ।

আর তুমি সেই তোমার অবস্থানে না পৌছানো পর্যন্ত তুমি এমন ভাবেই চলতে থাকো

আর সেই সুখটা তুমি তখনি পাবে যখন তোমার উপর সবকিছু নির্ভরশীলতা এসে পরবে ।

তখন তুমিও তোমার সংসার গোছাতে হবে ।

অবশেষে আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা আল্লাহ তোমার সবদিকে কল্যান করুক ।

তোমার দাম্পত্য জীবনে তুমি সুখী হও ।

”মেয়েদের বিয়ে”

মূলত এই কথাগুলাই মা আর নানীরা বলে থাকে তাদের মেয়েকে ।

ভাবতেই অবাক লাগে তাইনা  কতো স্নেহময়ী মেয়েকে আরকজনের বাড়ি গিয়েও

সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে চলতে হয়  এটাই কি আসলে মেয়েদের জীবন হে বন্ধুরা এটাই মেয়েদের জীবন ।

তাই আমরা সবসময় চেষ্টা করবো মেয়েদের কে সন্মান করতে তাদের সম্মান যেনো কখনো ক্ষুন্ন না হয় ।

মেয়েরা খুব নরম এবং গরম প্রকিৃতির হয়ে থাকে তাই তাদের কে আগলে রাখবেন সমসময় ।

যারা স্বামী আছেন সে সকল ভাইদের বলছি বউটা আপনার আপনি তার ভালো মন্দটা আগে দেখবেন ।

কারন সে তার বাবার রাজকন্যা ছিলো সেই রাজপ্রাসাদ ছেরে আপনার পদতলে  আশ্রয় নিয়েছে ।

তাকে তার পরিবারের কথা ভূলিয়ে দেয়ার চেষ্টা  করেন কেনোনা সে যখন নতুন আসে তার মন এবং মানসিকতা  ঐ ভাবে গরে উঠেনা ।

মন মানসিকতা ঐভাবে গড়ে উঠার সময় পর্যন্ত তাকে সাপোর্ট করুন আর সারাজীবন আগলে রাখার চেষ্টা করুন ।

সুখের সংসার হোক সবার ,জীবন হোক মঙ্গল ময় এই প্রার্থনাই করি ।

আজকে এ পর্যন্তই দেখা হবে নতুন কোনো পর্বে ।

সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সকলে ,খোদা হাফেজ ।

Leave a Comment