ঘুমানোর সময় ফোন পাশে থাকে ! এখনি সাবধান হয়ে যান

Spread the love

 

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমাদের স্বাদের মোবাইল ফোন টা জেগে থাকা অবস্থায় কেউ হাত ছারা করিনা । আবার ঘুমের সময়ও হাত ছারা করতে চাইনা ফোনটা প্রয়োজন হলেই যেনো কাছে পাই সে জন্য মাথার কাছে বা বালিশের কাছে রেখেই আমরা ঘুমিয়ে পরি ।

ঘুমানোর সময় অনেকেই মোবাইল ফোন বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে যান । ফোনটা আর বন্ধ করা হয়না কারন অনেকেই ইকটু পর পর নোটিফিকেশন দেখে ,এটা হয়তোবা একটা অভ্যাস এ পরিনত হয়ে গেছে ।

আপনার সুবিধার জন্য হয়তোবা আপনি আপনার মোবাইল ফোনটি বালিশের কাছে এলার্ম দিয়ে বা বালিশের নিচে চাপা দিয়ে ঘুমিয়ে পরেন । কিন্তু আপনি কি জানেন মোবাইলের যেমন উপকারের দিক আছে তেমনি ক্ষতিকর দিক রয়েছে অনেক ।

চলুন দেরী না করে জানা যাক সেসকল বিষয়গুলা :

হাজারো গবেষনা অনুসারে যে রিপোর্টগুলা দেশ বিদেশে পাওয়া হয়েছে সেই অনুসারে দেখা যায় । মোবাইলের প্রতি আসক্তি হওয়ার কারনে প্রতিনিয়ত শেষ করে দিচ্ছে । বাড়ছে অনেক ভয়ানক রোগ ক্যান্সারের মতো মহামারীর প্রকোপও ।আর এই ক্যান্সারে অধিকাংশ মানুষরাই ব্যায়বহুল চিকিৎসা না করতে পারলে অবস্থার কি পরিনতি হয় আমরা সকলেই সে বিষয়ে মুটামুটি জানি । যারা মূলত মাথার কাছে ফোন রেখে ঘুমাতে যান । তাদের আয়ূ খুব তারাতারি কমছে । এর মূল কারন হলো রেডিয়েশন । যা আসলেই মানব দেহ এবং মস্তিস্কের জন্য ভয়াবহ ।

বিশ্বের উন্নত দেশ চীন এবং আমেরিকা এ দুটি দেশের পৃথক গবেষণায় গবেষকরা এই ব্যাপারটা স্পষ্ট দেখিয়েছেন, মোবাইল ফোনের সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিয়ে থাকে মানুষ, বিশেষ করে  রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ে । কিন্তু, আমরা এটা জানিনা যে শরীরের কাছাকাছি মোবাইল ফোন রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই অভ্যাস আস্তে আস্তে অনেক বড় প্রাণঘাতীও হতে পারে।

বর্তমান বিশ্বের বড় বড় গবেষকরা এটা  বলছেন যে, বর্তমানে প্রায় সকল মোবাইল ফোনেই ব্যাবহার করা হয় লিথিয়াম-আয়ন চার্জযুক্ত ব্যাটারি। আর আমরা কি জানি এই ব্যাটারি থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় কমপক্ষে প্রায় একশোটি গ্যাস নির্গত হয় বা বের হয়ে থাকে, যেগুলো মানবশরীরের তথা আমাদের শরীরের  জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর কতগুলা গ্যাস।

কেমন হয় এ গ্যাসগুলা

এই সকল  গ্যাসে এর মাঝে রয়েছে কার্বন মনোক্সাইড এর মতো বিষাক্ত গ্যাস। কিন্তুু আমরা কি জানি এই কার্বন মনোক্সাইড যদি অতিমাত্রায় শরীরে ভিতরে প্রবেশ করে তাহলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এমনটা পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে ।

তবে চিন্তার কারন নেই এটা নিয়ে গবেষনাকারী গবেষকরা জানিয়েছেন , সাধারণত মোবাইলের ছোট ব্যাটারি থেকে যে পরিমাণ গ্যাস নির্গত হয় বা বের হয় তা প্রাণঘাতী মাত্রার না। তবে এ বিষয়টি সম্পর্কে মোবাইল ফোন ইউজারকারীদের সচেতনতা সাবধানতা অবশ্যই প্রয়োজন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আপনাকে কিভাবে ফোন ইউজ করতে হবে ।কিন্তু এই বিষয়ের উপর গবেষনাকারী গবেষকরা জানিয়েছেন যে, শুধু রাতের বেলায় নয়, মোবাইল ফোনের কাছে থাকা দিনের যে কোনো সময় হেত পারে ক্ষতিকর। মোবাইল ফোন বা ট্যাবে এর ব্যাটারি যদি নিম্নমানের হয়ে থাকে,

তাহলে তা থেকে বের হওয়া গ্যাসে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে শারীরিকভাবে ক্ষতির সম্ভাবনাও দ্রুত গতিতে বাড়ে বা বাড়তে থাকে। গবেষকরা এ কথা আরো জানিয়েছেন যে, যেসব মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট ফোন এর ব্যাটারি চার্জ করার সময় গরম হয়ে যায় বার বার, সেই সকল ব্যাটারি চালিত ফোন গুলা সাধারণত বেশি ক্ষতিকর হয় শরীর এর জন্য । অনেক সময় অনেক দেশ থেকে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বিস্ফোরণ হয়ে নানারকমের দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে বা শুনা গেছে ।

 

ফোন সাধারনত কি কি সমস্যার কারন হয় চলুন যানা যাকঃ-

ফোন যদি রাতের বেলা আপনার পাশে থাকে তাহলে অনায়াসেই রাত জাগার অভ্যাস তৈরী হয়ে যায় ।

বার বার নোটিফিকেশন দেখার ফলে আপনার শরীরে অনিদ্রার ছাপ এবং তা অভ্যাসে পরিনত হয়  যা আপনার শরীরে জন্য ক্ষতিকর  ।

প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘন্টার পর ঘন্টা দরে ফোন ইউজ করলে কোনো কাজের জন্য শারীরিক এবং মানসিক প্রস্তুতি নেয়া যায়না ।

মানুষের ঘুমানোর জন্য একটি স্বাভাবিক সময় রয়েছে ,যদি সেই ঘুমটা সময়মতো না হয় তাহলে তা স্নায়ূতন্ত্রের কাজকে বিঘ্ন ঘটাতে থাকে ধীরে ধীরে তাকে অকেজো করে তুলে ।

ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলে ফোনের ব্লু  লাইট চোখের অনেক ক্ষতি সাধন করে আমাদের অজান্তেই ।

রাতের বেলায় রুমের লাইট বা ঘরের বাতি বন্ধ করার পরে আর ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকানো যাবেনা ।

আমরা জানি রাতে ঘুম হলে শরীর মন দুটিই ভালো থাকে । আর কাজেও মনোযোগ বাড়ে । এজন্য ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন ব্যাবহার ছেরে দিতে হবে । না হলে শরীরে কি হতে পারে সেটা বলা বাহুল্য ।

 

কিভাবে মুক্তি পেতে পারেন :

♦ ফোন টা দূরে রাখেতে হবে

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোনটি আপনার সঙ্গে না রেখে আপনার কাছ থেকে দূরে রাখুন । আপনার মোবাইল ফোনটি আলাদাভাবে রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করে রাখুন।

যেখানে আপনার ফোনের চার্জার, হেডফোন অথবা অন্যান্য টুকিটাকি জিনিসপত্র রাখেন, তেমনি আপনার মোবাইল ফোনটি সেরকম একটা জায়গাতেই রেখে দিতে পারেন।

আপনার হাতের কাছে ফোনটা  থাকলে সেটাকে আপনার বারবার ইউজ করার আগ্রহ খুব বেশী  বাড়বে।

এতে যেনো আপনার মস্তিষ্ক কিছুতেই বিক্ষিপ্ত না হয়, প্রয়োজনের বাইরে ফোনটাকে রাখার চেষ্টা করুন ।

♦ বালিশের নিচে ফোন রাখবেন না

ঘুমানোর সময় আপনার বালিশের নিচে ফোনটাকে রাখবেন না ।

কারন যদি হঠাৎ করে আপনার ফোনে কেউ কল দেয় তাহলে আচমকা আপনার গভীর ঘুম এক নিমিষেই ভেঙে যাবে ।

♦ ফোন এ ইমেইল এবং ফেসবুক বন্ধ করে রাখুন

আমরা অনেকেই ফেসবুক এবং মেইল ইউজ করতে করতে ঘুমিয়ে যাই ।

এই অভ্যাসটি থেকে মুক্তি পেতে হলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার মোবাইল ফোনের এসব বন্ধ করে ঘুমাতে যান

কারন যদি কোনো নটিফিকেশন আসে আপনার মস্তিস্ক সেটা দেখার জন্য আগ্রহ প্রবনতা বেড়ে যাবে ।

♦ ফোন এ গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যাওয়া

অনেকেই সেল ফোনটাতে গান শুনতে শুনতে ঘুমাই যাই । আবার কানে হেডফোন লাগিয়েও ঘুমাই পরি ।

এটা আপনার মস্তিস্কের জন্য খুবই মারাত্বক । এই অভ্যাসটা জরুরি ভাবে পরিবর্তন করতে হবে ।

♦ ফোন এর ডিসপ্লের আলো চোখের রেটিনার ক্ষতি সাধন করে

রাতের বেলায় অন্ধকারে মোবাইল ফোনের স্ক্রিন এর আলো মানুষ এর চোখে এর রেটিনার পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক একটি দিক ।

ফোনের দিকে তাকাই থাকতে থাকতে আমাদের

অভ্যাসটা এমন হয়ে যায় যে এ আলোই সবার প্রথমে আমাদের মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয় আমাদের ফোনে কল অথবা

ম্যাসেজ আসার প্রাথমিক খবর এটা খুবই প্র্যাকটিকাল আপনার সাথেও এমনটা হয় ।

এই আলো ঘুমের জন্য যে প্রয়োজনীয় হরমোন তা নিঃসরণ হতে বাধা দিয়ে থাকে ।

♦ ঘুমকে বাধাগ্রস্ত করে ফোন

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে, মোবাইল ফোন ও মস্তিষ্কের মাঝে অল্প পরিমান তফাৎ থাকলে তা

ঘুমের পরিমাণ ও ঘুমের মান দইটার উপরেই অনেক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে থাকে।

ফোন মাথার কাছে নিয়ে শুয়ে থাকলে তা আমাদের শরীরের স্নায়ুকে উত্তেজিত করে রাখে।

ঘুমের মাঝেই আমাদের মস্তিস্ক বা আমরা অন্য কারে ফোন অথবা

ম্যাসেজের জন্য অপেক্ষা করে থাকি, যা আমাদেরকে বেশিক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখতে দেয় না ।

এটা খুবই মারাত্বক একটা অভ্যাস ।

সবশেষে আপনি কতক্ষণ বা কতোঘন্টা আপনার স্বাদের মোবাইল ফোনটা ইউজ করবেন বা ব্যবহার করবেন তার একটি প্রতিদিনের

রুটিন তৈরি করে রাখুন। আপনি বাড়িতে এসেই কতক্ষণ ফোন চালাবেন সেটা ঠিক করে নিন।

প্রতিদিন নির্দিষ্ট করে ঐ সময়টাতেই আপনি কেবল ফোন ব্যবহার করবেন ।

আর রাতের বাকি যে সময়টুকু সে সময়টাতে সকাল না হওয়া পর্যন্ত আর ফোনের কাছেও যাবেন না এবং স্পর্শ করবেন না।

এই নিয়মটা যদি অভ্যাস হিসেবে গড়ে উঠে তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে ।  এবার ঘুমাবেন সবাই শান্তিতেই।

1 thought on “ঘুমানোর সময় ফোন পাশে থাকে ! এখনি সাবধান হয়ে যান”

Leave a Comment